কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:৪৩ PM

বাশিএ আয়োজিত অনুষ্ঠান

কন্টেন্ট: পাতা

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা

  • তৃণমূল পর্যায়ের শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন বিষয়ে মেধাসম্পন্ন শিশুদের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার মোট ৩০টি বিষয়ের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
  • উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে শিশুরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে;
  • এই প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ শিশু অংশগ্রহণ করে।

মৌসুমী প্রতিযোগিতা

  • শিশুদের কর্মব্যস্ত রাখা এবং দলীয় সমঝোতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান বা দলভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের জানার আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
  •  এ প্রতিযোগিতার বিষয় ৬টি (জ্ঞান-জিজ্ঞাসা, উপস্থিত বিতর্ক, দেশাত্মকবোধক জারীগান, দলীয় লোকনৃত্য, দেয়ালিকা, দলীয় অভিনয়);
  •  উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে শিশুরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে।

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপন

  • ১৯৮৯ সনের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকার সনদ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ এই সনদে স্বাক্ষরকারী প্রথম ২২টি দেশের মধ্যে অন্যতম । ১৯৯০ সনের ২৯-৩০ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বিশ্ব শিশু শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাংলাদেশও অংশগ্রহণ করে।
  • বিশ্ব শশু শীর্ষ সম্মেলনে শিশুদের বেঁচে থাকার নিরাপত্তা ও উন্নয়নে বিশ্ব ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয় । ১৯৯১ সাল থেকে সদস্য দেশসমূহ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত শিশু অধিকার সপ্তাহ উদ্যাপন করে আসছে।
  • যেহেতু শিশু অধিকার সংরক্ষণে এবং বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ সেহেতু বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় অফিস, ৬৪টি জেলা ও উপজেলা শাখায় জাতিসংঘ শিশুসনদের উপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রতিষ্ঠান/বিদ্যালয় ভিত্তিক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিবছর শিশু অধিকার সপ্তাহ উদ্যাপন করা হবে ।

বিভিন্ন দিবস উদযাপন

  • শিশুদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ব করার জন্য শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ঈদ পরবর্তী আনন্দ উৎসব, জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস, আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসসহ প্রভৃতি দিবস উদযাপন করে থাকে;
  • জেলা ও উপজেলার খ্যাতিম্যান কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক শিশু সাংস্কৃতিক দল বিনিময় কার্যক্রম

  • দেশের শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এবং বিশ্বের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে শিশু সাংস্কৃতিক দল প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা হয়;
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশু জাপান, ভারত, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ সফর করে।

পুস্তক ও শিশু পত্রিকা প্রকাশ

  • শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল রচনা-কর্মে উদ্বুদ্ধ করা ও তাদের সার্বিকভাবে বইমুখী করার লক্ষ্যে শিশুদের উপযোগী ছড়া-কবিতা, গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান- প্রযুক্তি, নাটক-রূপকথা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ জীবনী, অনুবাদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি সম্পর্কিত পুস্তক প্রকাশ করে;
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য ‘শিশু’ নামে নিয়মিত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে থাকে;
  •  বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা---- টি।

পুস্তক বিক্রয় ও বিপণন

  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমির যাবতীয় বই-পত্রিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ৬৪টি জেলা শাখা ও ০৬টি উপজেলা শাখার মাধ্যমে নিয়মিত বিক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্রন্মেমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনী

  • অমরে একুশে গ্রন্থমেলা এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অংশগ্রহন করে থাকে।
  • প্রতিবছর কলকাতা আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলাসহ বিদেশে বিভিন্ন গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহন করে।

শিশুদের চিত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী

  • শিশুদের চিত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনীর জন্য জাদুঘর ভবনের নীচ তলাতে একটি আর্ট গ্যালারি রয়েছে।
  • জাদুঘর ভবনে ২৫ আসনবিশিষ্ট একটি থ্রি-ডি মিলনায়তন রয়েছে।

শিশু বিকাশ কার্যক্রম:

  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমির দুস্থ, অবহেলিত শিশুদের পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে শিশু বিকাশ কেন্দ্র কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা বিভাগের আওতায় মেয়ে শিশুদের জন্য আজিমপুর কেন্দ্র এবং ছেলে শিশুদের জন্য কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরে ১টি করে কেন্দ্রসহ মোট ৩টি কেন্দ্র এবং রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১টি করে মোট ৩টিসহ সর্বমোট ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে।
  • শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিরাপদ আবসন ব্যবস্থা, খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করে।

শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র

  • সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপযোগি করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করা হয়।
  • সারাদেশে ৭১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে বছরে ৪২০০ জন শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার

  • দেশের বিশিষ্টি লেখকদের উন্নতমানের শিশশিশুসাহিত্য রচনায় আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে ১৯৮৯ সাল থেকে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়।
  • একজন লেখককে তাঁর সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
  • এই পুরস্কারের বর্তমান মূল্যমান ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা।

অগ্রনী ব্যাংক-শিশু একাডেমি  শিশুসাহিত্য পুরস্কার

  • ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর বুক ইলাস্ট্রেশনসহ ৭টি বিভাগে বছরের সেরা বইয়ের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
  • অগ্রনী ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ

  • বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ও চিত্রাংকন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এসব শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অঅয়োজন করা হয়ে থাকে।

রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন

  • বিশ্বকবি ও জাতীয় কবির জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে শিশুদের অবহিত করা এবং তাঁদের সৃষ্ট কর্মের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
  • তাঁদের জীবনী আলোচনা, সৃষ্টি কর্মের উপর প্রতিযোগিতা, যেমন-আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ইত্যাদি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন

  • বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করানোর জন্য বৈশাখী মেলায় অংশগ্রহণ, লোকজ  ঐতিহ্য ভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রতিযোগিতা, দেশীয় খাবার দাবারসহ স্থানীয় ঐতিহ্য ভিত্তিক বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করানো ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়।

শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনী

  • শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ শিশু একাডেমির আরেকটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। এ পর্যন্ত একাডেমি ৫২টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে।
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নির্মিত চলচ্চিত্র শিশুদের মাঝে প্রর্দশন।

শিক্ষা সফর

  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রশিক্ষানার্থী, প্রশিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে প্রতিবছর শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়।
  • শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিশুদের জন্যও শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
  • দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, ঐতিহাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প কলকারখানা শিশুদের পরিদর্শন করানো হয়।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

  • পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এবং এর তাৎপর্য সম্পর্কে শিশুদের অবহিত করার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন সম্পর্কে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
  • মহানবী এর জীবন সম্পর্কে আরোচনা, হামদ ও নাত পরিবেশন ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন করা হয়।
  • প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সচেতনতা সৃষ্টি

  • জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে এবং শিশু অধিকার যাতে বাস্তবায়িত হয় সেই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।
  •  শ্রমজীবী অধিকার বঞ্চিত শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ সকল মহলের সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশু অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।
  • আলোচনা সভা, সেমিনার, এডভোকেসী সভা, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, নাটিকা/নাট্যাংশ, পুস্তিকা ও পোস্টার প্রকাশ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে।
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ‘শিশু অধিকার সনদের ভাস্য’ শিরোনামে একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছে।

কন্যা শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও অধিকার বিষয়ক কার্যক্রম

  • নারীর ক্ষমতায়ন নীতি সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে হলে প্রাথমিক পর্যায়ে কন্যা শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক ও অংশীদারীত্বমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন জরুরী।
  •  কন্যা শিশু, তাদের অভিভাবক এবং বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধি নিয়ে মুক্ত আলোচনা, সেমিনার, প্রচারণা ও কন্যা শিশুদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ইত্যাদির মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

বিবিধ কার্যক্রম

  • বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত শিশু-বিষয়ক কার্যক্রমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সক্রিয় সহযোগিতা করে থাকে।

 

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন